পর্ব ৪ : প্ল্যানিং
প্রথম, ফোকাস;
দ্বিতীয়, প্ল্যানিং;
তৃতীয়, টাইম ম্যানেজমেন্ট;
চতুর্থ, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট;
পঞ্চম, কন্টিনিউয়াস ফিডব্যাক;
ষষ্ঠ, কানেকশন;
প্ল্যানিং
কেন উচ্চমাধ্যমিকের পড়ায় প্ল্যানিং এতো জরুরী ?
দুটি কারণ :
১) সিলেবাস নির্ভর করে পরে কি নিয়ে পড়বো তার উপর, ডাইনামিক সিলেবাস
২) প্রায় ৭০-৮০% নতুন কনসেপ্ট, যা বুঝতেই প্রচুর সময় লাগে, তারপরে প্র্যাকটিস, তারপরে মক টেস্ট – এদিকে সময় খুব কম। দুবছর নামে, আসলে এক বছর আর ৮-৯ মাস মাত্র। এর মধ্যে অনেক অনেক কাজ, সঠিক প্ল্যান না করলে শেষ মুহূর্তে মাথা গরম হওয়া এবং ভুল হওয়া অনিবার্য।
প্ল্যানিং কিভাবে করবো ?
একটা বড়ো কাগজে নিচের তথ্যগুলো সাজিয়ে লিখে নাও :
১) Plan A – উচ্চমাধ্যমিকের পরে কি নিয়ে পড়বো, কোথায় পড়বো (ফোকাস পর্যায়ে স্থির হয়ে গেছে)
Plan B – যদি পছন্দের জায়গায় সুযোগ না পাই, তাহলে কোথায় পড়বো, কি নিয়ে পড়বো।
২) ঐগুলোর জন্য নিচের তথ্য গুলো স্পষ্ট করে লেখো –
এডমিশনের ফর্ম কবে দেয়,
ফর্ম কবে জমা হয়,
এডমিশন টেস্ট কবে হয়,
রেজাল্ট কবে বেরোয়,
অ্যাডমিশনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ শর্ত আছে কিনা,
৩) উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাস থেকে অ্যাডমিশন টেস্টের সিলেবাস কতোটা আলাদা, কোন কোন চ্যাপ্টার এক্সট্রা আছে সেগুলো পরিষ্কার করে লিখে রাখো।
খুব গুরুত্বপূর্ণ – প্রতি তিন চার মাস বাদে বাদে এই তথ্যগুলো চেক করে নাও, নতুন কিছু এলো কি না, বা কিছু পাল্টালো কিনা।
আরেকটা বড়ো কাগজ বানাও টাইমলাইনের জন্য (এটাও প্ল্যানিং এর অংশ), তাতে লেখো :
কতো তারিখের মধ্যে কোন চ্যাপ্টার পড়া শেষ করবে – প্রতি সাবজেক্টের জন্য।
“পড়া শেষ করার” চারটে ধাপ –
কনসেপ্ট বোঝা
বইয়ের প্রশ্নমালা শেষ করা
পুরনো বছরের প্রশ্নমালা শেষ করা
এডমিশন টেস্টের জন্য এক্সট্রা প্রশ্নমালা শেষ করা
প্রতিটা ধাপের জন্য যেন নির্দিষ্ট তারিখ থাকে।
এছাড়াও, প্রত্যেক তারিখের পাশে একটু ফাঁকা জায়গা ছেড়ে রাখো – যেমন যেমন চ্যাপ্টার শেষ হবে, বা চ্যাপ্টারের মধ্যের ধাপ শেষ হবে, ওই ফাঁকা জায়গায় “যেদিন আসলে শেষ হলো” সেই তারিখটা লিখে রাখো।
এতে বুঝতে সুবিধা হবে তোমার বানানো প্ল্যান তুমি ফলো করতে পারছো কিনা, কোথায় পিছিয়ে পড়ছ, কোথায় উন্নতি করতে হবে, বা কোন কোন জায়গা গুলোয় একদম প্ল্যান মাফিক চলছে।
এই দুইখানা বড় কাগজ পড়ার ঘরে টাঙিয়ে রাখো। ফলে যে কোনো সময় এক নজরেই তুমি বুঝে নিতে পারবে তোমার পড়াশোনা কতদূর এগোল – আর তার থেকেও বড়ো সুবিধা অনেক জিনিস তোমাকে আর মনে রাখতে হবে না; কাগজে তাকালেই দেখতে পাবে!
“এই যা! ডেট পেরিয়ে গেল!!” পরিস্থিতি কখনোই আসবে না – টেনশন ফ্রী।