পর্ব ৫: টাইম ম্যানেজমেন্ট

প্রথম, ফোকাস;
দ্বিতীয়, প্ল্যানিং;
তৃতীয়, টাইম ম্যানেজমেন্ট;
চতুর্থ, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট;
পঞ্চম, কন্টিনিউয়াস ফিডব্যাক;
ষষ্ঠ, কানেকশন;

টাইম ম্যানেজমেন্ট

দিনের সময় ফিক্সড – ২৪ ঘণ্টা !
উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময়ও ফিক্সড – ১ বছর ১০ মাস।

কাজেই সময়কে ম্যানেজ করার কথাটা আসলে বাজে কথা, ঠিক কথাটা হচ্ছে – নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়েও সব কাজ ঠিকঠাক শেষ করা।

একটা কমন ট্রেন্ড দেখা যায়, বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিক সায়েন্স স্টুডেন্টদের মধ্যে – বাংলা আর ইংরেজি কেউ পড়ে না ! নোটস জোগাড় করে শেষ মুহূর্তে মুখস্ত করে, কিছু একটা লিখে দেবো – এই ব্যাপার কুড়ি বছর আগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে – কারণ সাধারণভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট বলতে সবাই বোঝে : কিছু কাজ বাদ দিয়ে, বিশেষ করে সেইগুলো যেগুলো “আমি মনে করি” জরুরী নয়, বাকি কাজগুলো করা।

ওটা টাইম ম্যানেজমেন্ট নয়!

উচ্চমাধ্যমিক পড়ার ক্ষেত্রে আগের পড়বে চারটি ধাপের কথা বলেছিলাম

  • কনসেপ্ট বোঝা
  • বইয়ের প্রশ্নমালা শেষ করা
  • পুরনো বছরের প্রশ্নমালা শেষ করা
  • এডমিশন টেস্টের জন্য এক্সট্রা প্রশ্নমালা শেষ করা

আগে বাংলা ও ইংরেজির কথা বলি – এই দুই বিষয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু কেবল নিচের দুটি বিষয় প্রযোজ্য :

  • বইয়ের প্রশ্নমালা শেষ করা
  • পুরনো বছরের প্রশ্নমালা শেষ করা

অতএব এই দুটি শেষ করে ফেলা সবথেকে সহজ।

সবথেকে সহজ কাজগুলো প্রথমে শেষ করে ফেলা টাইম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম নীতি।

কাজেই পরীক্ষার আগের জন্য ফেলে না রেখে, সেশনের প্রথম দু-তিন মাসের মধ্যে একজন পড়ুয়া যদি বাংলা ও ইংরেজির সিলেবাস শেষ করে ফেলে, বাকি পুরো সময় সে তার কোর সাবজেক্টগুলির প্রতি সর্বোচ্চ সময় দিতে পারবে, মন হালকা থাকবে, আবার মাঝে মাঝে বাংলা ইংরেজির নোটসে চোখ বুলিয়ে নিলে রিভিশনও হয়ে যাবে – এক ঢিলে অনেক পাখি।

ফিরে আসি কোর সাবজেক্টগুলির ব্যাপারে।

পাঁচটা কাজ

  • কনসেপ্ট বোঝা
  • বইয়ের প্রশ্নমালা শেষ করা
  • পুরনো বছরের প্রশ্নমালা শেষ করা
  • এডমিশন টেস্টের জন্য এক্সট্রা প্রশ্নমালা শেষ করা

কিন্তু এতো প্রশ্নমালা জোগাড় করাও একটা বড়ো কাজ ! সে কাজে যদি অভিভাবক বা গৃহশিক্ষক সাহায্য করেন সবথেকে ভালো হয় – এবং অবশ্যই এই “প্রশ্নমালা জোগাড় করার” কাজটা (যেহেতু অপেক্ষাকৃত সহজ কাজ অতএব) অতিদ্রুত শেষ করে ফেলতে হবে।

এরপর টাইমলাইন মেনে পড়াশোনা শুরু।

আরেকটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস – রিভিশন। খুব দ্রুত, অল্প সময়ের মধ্যে, টেক্সট বই না ছুঁয়ে – রিভিশন কি করে করা যায় সে সম্বন্ধে “রিভার্স ট্রি-মডেল” (Reverse Tree Model) বিশেষ সহায়ক।

সঙ্গের ছবির সাপেক্ষে – ফিজিক্স বললেই প্রথমে কি কি চ্যাপ্টার আছে, সেটা মনে করতে হবে। তারপর প্রতিটি চ্যাপ্টারের মধ্যে কি কি ইম্পর্ট্যান্ট কনসেপ্ট সেগুলো, তারও পরে যদি কিছু ফর্মুলা থাকে সেগুলো।

প্রতিটি বিষয়ের পুরো ছবিটা যদি একটা বড়ো কাগজে এঁকে ফেলা যায়, এবং সেই আঁকা পড়ার ঘরে টাঙিয়ে রাখা যায় – তবে আরো ভালো হয়।

সাধারণভাবে পড়ুয়ারা যদি কনসেপ্ট গুলো বুঝে বুঝে পড়ে, তবে এই ছবি দেখা মাত্রই তাদের পুরো বিষয়টা মনে পড়ে যাবে।

এই মডেলের সাহায্যে ১ ঘণ্টারও কম সময়ে পুরো সিলেবাসের রিভিশন সম্ভব কিন্তু !

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x