পর্ব-৮: গ্রুপ স্টাডি
জানি না তোমরা এই জিনিসটা করো কিনা, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল বড়ো সিলেবাস ভালোভাবে শেষ করতে গ্রুপ স্টাডির কোনো বিকল্প নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে উচ্চমাধ্যমিকের সময় গ্রুপ স্টাডি করেছিলাম, আরো তিনজন বন্ধুর সঙ্গে – খুব উপকার পেয়েছিলাম।
গ্রুপ স্টাডি মানে কি ?
কয়েকজন বন্ধু, যাদের নিজেদের মধ্যে মনের মিল আছে (মানে আড্ডা ভালো জমে আর কি!) একসাথে বসে পড়াশোনা করা।
কিভাবে করবে ?
প্রথম, এমন বন্ধুদের গ্রুপ বানাও যারা কাছাকাছি থাকে। অপেক্ষাকৃত দূরের বন্ধুদের বাছলে, যাতায়াতে অনেক সময় চলে যাবে। যেসব বন্ধু একই স্যারের কাছে টিউশন পড়ো, তারা যদি গ্রুপ বানাও – সবথেকে ভালো হয়।
দ্বিতীয়, একটা রুটিন বানাও – কবে কবে, কটার সময়, কতক্ষণ কোন সাবজেক্টের গ্রুপ স্টাডি করবে।
১৯৯৯-২০০০ সালে আমরা যখন করতাম, তখন স্কুল আর টিউশনির সময় বাদ দিয়ে কেবল রবিবারই পেতাম – এখন স্কুল বন্ধ হয়ে তোমাদের কাছে সময় অনেক বেশী। টিউশনির সময়টুকু বাদ দিয়ে, বাকি যে কোনো সময় বসে পড়ো।
তৃতীয়, অঙ্কের গ্রুপ স্টাডি একরকম, বাকি সাবজেক্টের আরেকরকম।
অঙ্কের ক্ষেত্রে (এই স্টেপগুলো ফিজিক্সের অঙ্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য) :
১) একটা নির্দিষ্ট বইয়ের নির্দিষ্ট প্রশ্নমালা বেছে নিয়ে, কম্পিটিশন করে অঙ্ক করো, হয়তো ৪৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা।
২) সময় শেষ হলে আলোচনা শুরু করো।
যে বা যারা কম পারছে, তারা কোথায় পিছিয়ে পড়ছে, তাদের কনসেপ্ট বোঝায় কোথায় কমতি থেকে গেছে – সেটা খোলাখুলি আলোচনা করো।
৩) যারা অঙ্কটা পারছে, তারা বাকিদের বোঝাও কি করে অঙ্কটা করলে
৪) যদি কিছু অঙ্ক থাকে যেটা কেউই পারছ না, সেটা মার্ক করে রাখো স্যারকে দেখানোর জন্য।
৫) যদি দেখো, সবাই মোটামুটি ভালোই পারছো, তাহলে এক এক জন এক এক বই থেকে অঙ্ক করো – কেউ K C Nag, কেউ S N Dey – এইরকম।
৬) কোনো বইয়ের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক একজন না পারলে, সবাই মিলে একসাথে চেষ্টা করো।
৭) সব বইয়ের কঠিন অঙ্কগুলো অবশ্যই আলোচনা করো – কি করে করলে।
বাকি সাবজেক্টের ক্ষেত্রে :
১) যেদিন গ্রুপ স্টাডিতে বসবে, তার আগেরদিন ঠিক করে নাও
ক) কোন চ্যাপ্টারের উপর স্টাডি করবে (ধরা যাক, ফিজিক্সের “ইউনিট আর মেজারমেন্ট”)
খ) কে কোন কনসেপ্টটা পড়ে আসবে, বা কতো পাতা থেকে কতো পাতা পড়ে আসবে (ধরো মোট যদি ২০ পাতার চ্যাপ্টার হয়, আর ৪ বন্ধু থাকে, তাহলে প্রত্যেকে ৫ পাতা করে পড়ে আসবে)
২) গ্রুপ স্টাডির দিন এক এক জন করে নিজের পড়ে আসা অংশ বাকিদের ব্যাখ্যা করো, বোঝানোর চেষ্টা করো।
৩) ব্যাখ্যা শেষ হওয়ার পর, বাকিরা সেই অংশ থেকে তাকে প্রশ্ন করবে – সে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে।
৪) যে যে প্রশ্ন করা হবে, সেগুলো কেউ একজন নোট করে নেবে।
৫) সবার বলা হয়ে গেলে, এবারে মোট যে প্রশ্নমালা তৈরী হলো সেটা নিয়ে সবাই আলোচনা করো।
৬) কোনো প্রশ্নের উত্তর যদি না পারা হয়, সবাই মিলে সেটা সলভ করার চেষ্টা করো। একদমই না পারলে স্যারের কাছে নিয়ে যাও।
গ্রুপ স্টাডির উপকারিতা বহু, কিন্তু সেগুলো শুধু লিখলে বা পড়লে কোনো লাভ নেই ! গ্রুপ স্টাডি শুরু করো, সমস্ত উপকারিতা নিজেই বুঝতে পারবে।